উপজাযক

door-knocker-tom-gowanlock

মোবাইলের ডাকে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। শীতকাল , লেপের তলার ওম থেকে হাতটা বের করতে ইচ্ছে করছিল না। বেশ বোঝা যাচ্ছে এখনো বেশী বেলা যায় নি। হাতটা বাড়িয়ে ফোন টা ধরতেই, ওধার থেকে মহিলা কন্ঠ, “ফণীবাবু, আজকে আমার রক্ত নিতে লোক পাঠানোর কথা ভুলে যাননি তো?আটটার মধ্যে যেন অবশ্যই আসে। কারণ, গতকাল রাত আটটায় খেয়েছি”। আমি হু, হ্যাঁ , কে জিজ্ঞেস করার আগেই লাইনটা কেটে গেল। খানিকক্ষণ শুয়ে থাকার পর, কি মনে হল, উঠে পড়লাম। বাথরুম এ গিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে, এক কাপ চা করে নিয়ে ঘরে এলাম। বারিতে আমি একাই থাকি। তাই একা থাকার মতন সব ব্যাবস্থাই করে নিতে হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ এক বয়স্ক মহিলা এসে বাড়ির কাজকর্ম করে, টুকটাক খাবার মতন রান্নাও করে দিয়ে যায়। ঘরে এসে চা খেতে খেতে মোবাইলের কল রেজিস্টার দেখতে দেখতে রিসিভড নাম্বারের শেষ নম্বরটা দেখলাম – কোনো মোবাইলের নম্বর নয়, লান্ডলাইন নম্বর – মনে হল সল্টলেকের । তখন বসলাম কম্পিউটার এর সামনে, ফোন নম্বর দেখে বাড়ির ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতে দেখলাম – হ্যাঁ, সল্টলেকের এ.বি ব্লকের একটা ঠিকানা।

আমারও বয়স হয়েছে। প্রায়ই এটা ওটা ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হয়। রক্তপরীক্ষা তো লেগেই আছে। যে ছেলেটা রক্ত নিয়ে যায়, তার মোবাইল নম্বরটা আমার কাছে আছে, সেটাতে ফোন করলাম, করে ছেলেটাকে বললাম, ‘দেখ, সকাল আটটার মধ্যে এইরম এক ঠিকানায় গিয়ে একজন মহিলার সম্ভবতঃ বয়স্ক, (গলা শুনে তাই মনে হয়েছিল) ব্লাড কালেক্ট করতে হবে, তুই কি পারবি?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ, কেন পারব না’। বলে আমার কাছ থেকে বাড়ির নম্বরটা নিল।

এরপর আর কোন খবর নিই নি। আমি আমার মতন দিন কাটাচ্ছি। এবার আমার রুটিন মাফিক ডাক্তার দেখানোর পরে, ডাক্তার বললেন, ব্লাড সুগার টেস্ট করতে। আমি যথারীতি সেই ছেলেটিকেই ডাকলাম। সে যখন আমার রক্ত নিতে এসেছে, তখন হঠাত-ই  সেই দিনের কথা মনে পরাতে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হ্যাঁ রে, তুই সেদিন সল্টলেকের বাড়িতে গিয়েছিলিস?’  ও বলল, “হ্যাঁ, আমি সকাল আটটার আগেই ওখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম। একজন বয়স্কা মহিলা বেশ উৎকণ্ঠিত মুখে দরজা খুলে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি রক্ত নিতে এসেছেন?’ আমি বললাম, “হ্যাঁ”। তখন তিনি বললেন, ‘আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। যাক বাবা, বাঁচালেন’। তারপর আবার সন্ধেবেলা রিপোর্ট ও দিয়ে এসেছিলাম। কেন গো, কিছু হয়েছে না কি?’

‘আরে, না না …. এমনি জিজ্ঞেস করছিলাম।

তারপর নিজের মনেই ভাবছি আর হাসছি…..সেই ফণী বাবুর যে কি হল, তিনি কি আদৌ সেদিন কাউকে পাঠিয়েছিলেন বা নিজে গিয়ে মুখঝামটা খেয়ে ফিরে গিয়েছিলেন…..না কি…..

 

Sanchayita Sanyal

Sanchayita Sanyal

ভালোবাসি বই পড়তে , ঘুরতে। হঠাত করে ছড়া এসে যায় মনে আর লিখে ফেলি। রবীন্দ্রনাথের জীবনদর্শনে উদ্বুদ্ধ হই, সারদা মা কে প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করি। সবার উপরে আমার বাবা-মা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আদর্শ।

More Posts

Related posts

Leave a Comment